সাহিত্য

মব্রোস|| জেরোম|| অগাস্টিন|| গ্রেগরী দি গ্রেট||

আতা সরকার

প্রাচীন বিশ্বের পতন সম্পর্কে সেন্ট জেরোমের চিন্তাধারার কেন্দ্রীভূত সবার হলো: হুন, ভ্যান্ড্যাল ও গথ জাতিগুলির উপর বিজয়ের চাইতে কৌমার্য-সংরক্ষণ অধিকতর প্রয়োজনীয়|

সেন্ট অগাস্টিন (৩৫৪-৪৩০ খৃ.) রোম সাম্রাজ্যের কারণসমূহ ব্যাখ্যা করার প্রয়াস পান| খৃস্টধর্মের কারণেই যে রোমের হুন হয়েছে, এ যুক্তি খন্ডন করে তিনি বলেন যে, কোন সাম্রাজ্যের পতনের জন্য কল্পিত দেব-দেবীর খেয়ালি মেজাজের কোনরকম নিতে নেই; এ হলো ইতিহাসের স্বাভাবিক বিকাশধারারই ফলশ্রুতি| ঈশ্বর পৃথিবীতে তাঁর রাজত্ব কায়েম করতে চান; তাঁর রাজত্ব কায়েমের উদ্দেশ্যে অনুসৃত পরিকল্পনার ভিত্তিতে সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন সংঘটিত হয়| এই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে রোম সাম্রাজ্যের পতন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল বলে তিনি মনে করেন|

সেন্ট অগাস্টিনের ইতিহাস সম্পর্কিত ভাববাদী ব্যাখ্যার সাথে অনেকেই মার্ক্সীয় জড়বাদী ব্যাখ্যার সাদৃশ্য দেখতে পেয়েছেন| বার্ট্রান্ড রাসেল এ ধরনের একটা সাদৃশ্য দেখিয়েছেন:

“To understand Marx psychologically, one should use the following dictionary:

Jahweh= Dielectical Materialism

The Messiah= Marx

The Elect= The Parliament

The Church= The Communist Party The Second Coming=The Revolution

Hell= Punishment of the Capitalist

The Millennium= The Communist Commonwealth

The terms of the left give the emotional content .org the terms on the right, and it is this emotional content, familiar to those who have had a Christian or a Jews upbringing, that makes Marx’s eschatology credible.”

সেন্ট অগাস্টিন দু’ধরনের রাষ্ট্রের কথা বলেছেন:

১. সবার প্রায়শ্চিত্তের ক্ষেত্র হিসেবে পার্থিব রাষ্ট্র; এবং

২. পূত পবিত্র ঈশ্বরের রাষ্ট্র যেন রাষ্ট্রের নাগরিক হবে শুধুমাত্র খৃস্টানরা|

ঈশ্বরের রাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হলে ঈশ্বরের বিশেষ করুণার প্রয়োজন– এ ধরনের একটি বিমূর্ত ধারণা অগাস্টিন দিয়েছেন| পার্থিব রাষ্ট্রও একই ধরনের বিমূর্ত ধারণার উপর সংগঠিত| অন্যদিকে ঈশ্বরের রাষ্ট্রে প্রবেশ করার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে খৃস্টীয় চার্চ|

সেন্ট অগাস্টিন মানুষের দাসত্ব প্রথার অনুমোদন দিয়ে বলেছেন, দাসত্ব প্রথা মানুষের অবশ্যম্ভাবী পতনের ফলশ্রুতি| তাঁর মতে, দাসের ভাগ্য পাপের মাশুল বৈ আর কিছু নয়|

পঞ্চম শতকে অগাস্টিনের মৃত্যুর পর ইউরোপীয় অবিকশিত ও গোঁড়া রাষ্ট্রদর্শনের সামান্যই অগ্রগতি হয়| পোপ গ্রেগরী দি গ্রেট ‘Theory of Two Swords’ তত্ত্ব ঘোষণা করেন| এ তত্ত্ব অনুযায়ী পার্থিব কার্যাবলীতে রাষ্ট্রের এবং পারলৌকিক ও আধ্যাত্মিক কার্যাবলীতে গীর্জার প্রাধান্য ও স্বায়ত্তশাসন স্বীকৃত হয়।

তখনো রাষ্ট্র ও গীর্জার কর্মক্ষেত্রের পরিধি সুচিহ্নিত ছিল না| শীঘ্রই দেখা যায় যে পরস্পর পরস্পরের ব্যাপারে নাক গলাতে উৎসাহী হয়ে উঠছে।স্বাভাবিক ভাবেই দেখা দেয় বিরোধ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত সংঘর্ষ|

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button